‘তালেবান ও ইসলাম’ সমার্থক নয় : সৈয়দ আনোয়ার

 প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ বঙ্গবন্ধু চেয়ারের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ তালেবান জঙ্গিদের থাবা থেকে মুক্ত নয়। তালেবান ও ইসলাম সমার্থক নয়। জঙ্গিবাদ নিয়ে আমাদের শংকার কারন রয়েছে। আমি ভেবেছিলাম ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সুশীল সমাজ তালেবানদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠবেন। আলোচনা করবেন, লিখনী লিখবেন। কেউ কোথাও কিছু করেননি। শনিবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাব জহুর হোসেন হলে বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আফগানিস্তানে জঙ্গি উত্থান বিশ্বের অশুভ সংকেত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন । ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার দুইটা লক্ষ একটা ইসলামকে যথার্থ ভাবে অনুসরণ করি। আরেকটা জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করা। আমরা এখনই সচেতনতা হই, সর্তক হই। বাংলাদেশ মানুষের দেশ হিসে গড়ে তুলবো অসাম্প্রদায়িক। এখানে ধর্ম থাকবে, ধর্মান্ধতা থাকবে না। ধার্মিক থাকবে কিন্তু জঙ্গি থাকবে না। এই প্রতিজ্ঞা আজ আমাদের করতে হবে। আফগানদের ধর্মচর্চা নিয়েও কথা বলেন ইতিহাসবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আফগানরা ইসলাম গ্রহণ করতে চায় নি। অনেক চেষ্টা তদবির করে ইরানী সুফি সাধকরা ক্রমাগত ভাবে আফগানে ইসলাম নিয়ে এসেছেন। আফগানরা যখন ইসলাম গ্রহণ করেছে, নিজেদের মত করে গ্রহণ করেছে। গোত্রভিত্তিক ইসলামি চেতনা লালন করেছে। আফগানরা গোত্র চেতনায় এক গোত্র আরেক গোত্রের সঙ্গে নামাজও পড়ে না, খায়ও না তবে যুদ্ধ করে এক সঙ্গে। তালেবানদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তালেবানদের বিরুদ্ধে আফগান নারীরা পুরানো আমলের পতাকা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, এ ছবিও আমরা দেখেছি। একজন নারীর বোরকা ছিলো না, গুলি করে মেরেছে তালেবান। কোরআন-হাদিসের কোথায় নির্দেশ আছে, হিজাব-নিকাব, বোরকা পরতে হবে; শালীনতার বাহিরে। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল বলেছ, ‘ইসলাম সেতো পরশ মণি, কে পেয়েছে খুঁজে’। আজকে পর্যন্ত কেউ খুঁজে পায় নি। ইসলামকে তালেবানরা খুঁজে পাবে না। আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো সম্প্রদায়কে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেবো না। দেশের যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কোনো কিছু থাকতে পারে না। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিশেষ গোষ্ঠী বা বিশেষ ব্যক্তির প্রাধান্য যাতে সেখানে না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এসময় অন্যন্য বক্তারা বলেন, পাকিস্তান-চীন আজকে তালেবান-জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদীরা তালেবানদের মত অপশক্তিকে ব্যবহার করছে। জঙ্গি-তালেবানদের বিরুদ্ধে আমাদের আদর্শিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সামজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তালেবানরা স্বাভাবিক মানুষ নয়। বক্তারা আরও বলেন, আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থাপন আমাদের জন্য অশুভ সংকেত। আমাদের দেশের উগ্র মৌলবাদীরা সুরসুরি পাচ্ছে। তালেবানরা ইসলামের নামে সন্ত্রাববাদ করছে এতে ইসলাম ধর্মের ক্ষতি হচ্ছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম এখনে জঙ্গিবাদের জায়গা নেই। ধর্মের নাম দিয়ে ইসলামের উপরে কালিমা লেপন করা হচ্ছে। জোরজবরদস্তির করার জায়গা নেই। তালেবান, জঙ্গিরা জোরজবরদস্তির করছে। তালেবানদের অত্যাচারে আফগান মুসলিমরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। এটা কোনো ভাবেই ইসলামের বিজয় নয়। বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্টি ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, বিশিষ্টি ইসলামি চিন্তা বিদ আল্লামা এটিএম ফরহাদ, মাওলানা মহিউদ্দিন খান ফারুকী, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. আব্দুল আজিজ, তসলিম উদ্দিন রানা, সন্তুষ দাস গুপ্ত, বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্টি ফোরামের সমন্বয়ক শেখ জনি ইসলাম, সাংবাদিক গণবন্ধু রাহাত হুসাইন প্রমুখ।

‘তালেবান ও ইসলাম’ সমার্থক নয় : সৈয়দ আনোয়ার

পল্লবী থানায় করা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে জামিন দিয়েছেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত আজ মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর গুলশান থেকে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার হন হেলেনা জাহাঙ্গীর।

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে জামিন দিয়েছেন আদালত

৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের টিকাদান কেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের টিকাদান কেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দেওয়া হবে — স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

হেফাজত মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বাণিজ্য করছে : উলামা পরিষদ

হেফাজত মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বাণিজ্য করছে : উলামা পরিষদ

হেফাজত মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বাণিজ্য করছে : উলামা পরিষদ হেফাজত সাম্প্রদায়িক জঙ্গি সংগঠন আখ্যা দিয়ে বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের নেতারা সংগঠনটি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম উগ্র-সাম্প্রদায়িক মানবতাবিরোধী জঙ্গি সংগঠন। বাঙালি মুসলিমদের ঈমান, আকিদা ও ধর্মীয় বিশ্বাস-অনুভূতি নিয়ে করছে বাণিজ্য। বুধবার ( ২৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ীর সভাপতিত্বে মানবতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক জঙ্গি সংগঠন হেফাজতকে নিষিদ্ধকরণ ও সংগঠনের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের নেতারা এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, হাজার বছরের সম্প্রীতির এই বাংলাদেশে হঠাৎ করে একটি ধর্মীয় সংগঠনে সাম্প্রদায়িক কর্মকান্ডে আমরা অভাগ হয়েছি। এই দেশ সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ মিলে মিশে বসবাস করছে। হেফাজতে ইসলাম ২৪-২৫-২৬-২৭-২৮ মার্চ সমগ্র দেশব্যাপী যে তান্ডব চালিয়েছে তা মানবতাকে চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত করেছে মানবতাবিরোধী তো বটেই এটা ইসলাম সমর্থন করে না। অন্যান্য ধর্মও এ তান্ডব সমর্থন করে না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণে হেফাজতে ইসলামের সকল কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করতে হবে।

সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল আলেম-উলামাদেরকেও ঐক্যবদ্ধ করে কাজে লাগাতে হবে। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আব্দুল আলিম আজাদী, মাওলানা শাইখ আলমগীর হোসাইন, হাফেজ মাওলানা হোসেন জুয়েল, মাওলানা হাফেজ আনোয়ার শাহ, আওয়ামী লীগ নেতা এহাইয়া খান কুতুবী, ন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সভাপতি গণবন্ধু রাহাত হুসাইন, মাওলানা হাফেজ জলিল, মাওলানা মাহমুদুল্লাহ মেরাজ, আলহাজ্ব মোঃ সোহান চিশতী, নাফি উদ্দিন উদয়, শাফি উদ্দিন বিনয় প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী বলেন, হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জামাতে ইসলামের অনুকরণে। বর্ণে ভিন্ন হলেও আদর্শে দিক দিয়ে সংগঠন দুটি অভিন্ন সত্ত্বায় বিরাজ করছে। হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আহমদ শফিকে হত্যার মধ্য দিয়ে সংগঠনটিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জঙ্গীরা দখলে নিয়েছে। যার নেপথ্যে রয়েছে ৭১’র ঘাতক চক্র জামায়াত-বিএনপিসহ স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সমষ্টিগত নাম হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। জামায়াতে ইসলামের সাথে যেমন সম্পর্ক নেই তেমনি হেফাজতের সাথে ইসলামের মূল আদর্শের সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের কতিপয় নেতা দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পরেছে। হেফাজতে ইসলামের নেতাদের অস্বাভাবিক লেনদেনের কারণে তাদের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করতে হবে। তাদের কাছে ইসলামও নিরাপদ নয়। ই

সলামের লেবাস লাগিয়ে হেফাজতে নেতারা নারী কেলেঙ্কারিসহ, দেশবিরোধী চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, ধোঁকা, সরকারি সম্পদ ধ্বংস, মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালাও পোড়াও করছে। নারীদের ইজ্জত লুটতেও তারা ধর্মের ব্যবহার করছে। মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা হেফাজতে ইসলামের সমর্থকদের চিহ্নিত করে তাদের সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।

মানববন্ধনে বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের নেতারা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ধর্ম ব্যবসায়ীদের সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ওপরে ভর করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা করছে। হেফাজতে ইসলাম ধর্মের নামে বাঙালি মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা করেছে। হেফাজতে ইসলামের আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী শিবির ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে জ্বালাও পড়াও শুরু করেছে। এদেরকে রুখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের আলেম-ওলামা, পীর মাশায়েখদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি। সরকারকে এই বিষয়ে দায়িত্বশীলতার ভূমিকা নিতে হবে।

 

https://bm24tv.net/

হেফাজত মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বাণিজ্য করছে : উলামা পরিষদ

কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ) ।

তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী । তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ) ।

“আপনাদের শঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। সরকার সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর আমি দরিদ্র-নিম্নবিত্ত মানুষদের সহায়তার জন্য কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে পল্লী অঞ্চলে কর্মসৃজনের জন্য ৮০৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং পবিত্র রমজান ও আসছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৬৭২ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। এর দ্বারা দেশের প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪২ হাজার নিম্নবিত্ত পরিবার উপকৃত হবেন। গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ভিজিএফ, টেস্ট রিলিফসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।”

“তবে আমাদের সবাইকে সাবধান হতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব আমাদের নিজের, পরিবারের সদস্যদের এবং প্রতিবেশির সুরক্ষা প্রদানের। কাজেই ভিড় এড়িয়ে চলুন। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘরে ফিরে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে গরম পানির ভাপ নিন। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে ১৮-দফা নির্দেশনা জারি করেছে। আমরা যদি সকলে করোনাভাইরাস মোকাবিলার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, অবশ্যই এই মহামারিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।”

“প্রিয় দেশবাসী,
যুগে যুগে মহামারি আসে, আসে নানা ঝড়-ঝঞ্ঝা, দুর্যোগ-দুর্বিপাক। এসব মোকাবিলা করেই মানবজাতিকে টিকে থাকতে হয়। জীবনের চলার পথ মসৃণ নয়। তবে পথ যত কঠিনই হোক, আমাদের তা জয় করে এগিয়ে যেতে হবে।

আপনাদের শঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। সরকার সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ছুটিতে আসা এবং নতুন ভিসা প্রাপ্ত প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে সময় মত গমনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রাখার জন্য আটাব এর সংবাদ সম্মেলন, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি ভবন (সাগর-রুনি হল), সেগুনবাগিচা, ঢাকা । ১৩ এপ্রিল ২০২১ইং ।

 

আটাব- এর পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি ।

আপনারা অবগত আছেন যে, আটাব দেশের প্রায় ৩৫০০ সরকার নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সির একটি অলাভজনক সংগঠন। আটাব ৪২ বছর ধরে তার সদস্যদের কল্যানে নিবেদিত। বিদেশগামী যাত্রীদের এয়ার টিকেট ও অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতা সহ দেশী-বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে আটাব নিবিড় ভাবে কাজ করছে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগী সংস্থা হিসেবে গুরুত্বপূ্র্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কাজ হচ্ছে সকল Airlines-এর মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমনেচ্ছুক যাত্রী এবং প্রবাসী কর্মীদের Airlines সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ, এয়ার টিকেট ইস্যু করা, ভ্রমন ভিসা আবেদন সহ সংশ্লিষ্ট কাজে সহায়তা করা। তাছাড়া হজ্জ্ব লাইসেন্স প্রাপ্ত ট্রাভেল এজেন্সিগুলো হজ্জ্ব ও ওমরাহ সম্পাদনে যাবতীয় সহযোগিতা করে থাকে। Aviation সংশ্লিষ্ট সমস্ত কাজেই ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংশ্লিষ্টতা থাকে বিধায় এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে কোন সমস্যার সৃষ্টি হলে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো সে সমস্যা সমাধানে জনকল্যানে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে। কারণ ট্রাভেল এজেন্সি ও এয়ারলাইন্সগুলো এক সাথে কাজ করে থাকে।

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ছুটিতে আসা প্রবাসী কর্মী ও নতুন ভিসা প্রাপ্তদের যাতায়াত সচল রাখার নিমিত্ত লকডাউনের মাঝে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসমূহ চলাচল রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আপনাদের মাধ্যেমে সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

দেশব্যপী করোনা ভাইরাসের বর্তমান অস্বাভাবিক প্রাদুর্ভাবের করনে আগামী ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল, ২০২১ তারিখ পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। করোনামহামারী নিয়ন্ত্রনে সরকারের পদক্ষেপের সাথে সহযোগিতা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আামাদের সকলেরই দায়িত্ব। লডাউনের সময়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পথে সকল ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মূল্যবান বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনকারী অনেক প্রবাসি ছুটি নিয়ে বা জরুরী প্রয়োজনে বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন এবং তাদের অনেকের ভিসার মেয়াদ উর্ত্তীণ হতে চলেছে । তারা এয়ারলাইন্সের টিকেট সংগ্রহ করে কর্মস্থলে গমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন । তাছাড়াও অনেক নতুন কর্মী ভিসা প্রাপ্ত হয়ে কর্মস্থলে গমণের অপেক্ষায় রয়েছেন । নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করতে পারলে নিয়োগ কর্তা তাদের অনেকেরই ভিসা বাতিল করবেন ।

প্রবাসীদের ছুটি শেষে নিজ কাজে সুষ্ঠ ভাবে ফিরে যাওয়া বা নতুন ভিসা নিয়ে কর্মে যোগদান করতে তাদের যাতায়াত চলমান রাখা অতীব প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি । অন্যথায় তাদের চাকুরী হারানোর শঙ্কা রয়েছে । একজন প্রবাসীর আয়ের উপর তার পুরো পরিবার নির্ভরশীল । সঠিক সময়ে নিজ কর্মস্থলে গমন করতে না পারার কারনে তাদের কর্মচ্যুতি হলে তাদের পরিবার পথে বসার উপক্রম হবে ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন সাধন করেছেন এবং করে চলেছেন । প্রবাসী বাংলাদেশী তথা প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বহুমুখী কল্যানমূলক কর্মসূচী নিয়েছেন । তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরও বেশি বেশি কর্মী প্রেরণের জন্য অনেক উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। ছুটিতে আসা প্রবাসী কর্মী এবং নতুন ভিসা প্রাপ্ত কর্মীদের সময় মত কর্মস্থলে পৌঁছানোর বিষয়টিও বর্তমান সরকার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবেন বলে আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি । লকডাউনের সময় যাদের ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল বা যাদের ভিসা মেয়াদোত্তীর্নের পথে তারা সময়মত কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্থ হবে ।

এছাড়া প্রবাসী কর্মীগণ যে সকল দেশে গমন করবেন বিশেষত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ অনেক দেশ অদ্যাবধি বাংলাদেশী যাত্রী প্রবেশে কোন প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ করেনি । তাই প্রবাসী কর্মী যাত্রীদের নিজ গন্তব্যে গমনের জন্য লকডাউনের মাঝে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসমূহ সচল রাখতে আপনাদের মাধ্যমে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ ও বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করছি ।

ধন্যবাদান্তে মনছুর আহামেদ কালাম, সভাপতি আটাব ।

মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ছুটিতে আসা এবং নতুন ভিসা প্রাপ্ত প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে সময় মত গমনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রাখার জন্য আটাব এর সংবাদ সম্মেলন।

https://www.facebook.com/bm24tvofficialpage