গতকাল ৩১ জুলাই-২০২২ রোববার বিকেল চারটায় আগারগাঁও পর্যটন ভবনের ব্যাঙ্কুয়েট হলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স এসোসিয়েশন উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধুর পর্যটন দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও (বিটিইএ)-এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, এমপি ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। গেষ্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এফবিসিসিআই-এর পরিচালক জনাব এমজিআর নাসির মজুমদার ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের কিউরেটর জনাব এনআই খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক জনাব সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সদস্য জনাব মো. রাফেউজ্জামান, ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্রিয়াব)-এর সভাপতি জনাব খবির উদ্দিন আহমেদ, ট্যুর অপেিরটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সভাপতি জনাব শিবলুল আজম কোরেশি এবং ওয়ার্ল্ড ট্রাভেলাস ক্লাব লিমিটেড-এর প্রেসিডেন্ট তৌহিদা সুলতানা রুনু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স এসোসিয়েশন (বিটিইএ)-এর চেয়ারম্যান জনাব শহিদুল ইসলাম সাগর।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিটিইএ-এর নব নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি, বিটিইএ-এর ন্যাশনাল ওম্যান স্ট্যান্ডিং কমিটি ও বিটিইএ-এর ঢাকা ওম্যান স্ট্যান্ডিং কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ পাঠ করান বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। আগামী দুইবছর এই কমিটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রধান অতিথি জনাব র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, এমপি বলেন “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর পর্যটন দর্শনকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ”

বার্তা প্রেরক শেখ শিউলী আক্তার পরিচালক মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স এসোসিয়েশন (বিটিইএ) ।

 বিটিইএ-এর উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধুর পর্যটন দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও (বিটিইএ)-এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ।

“ইসলামের ইতিহাসে গাদীরে খুম্মের গুরুত্ব”—-মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী আরবী ১৮ জিলহজ্ব ১০ম হিজরী বৃহস্পতিবার ৬৩২ ঈসায়ী ইসলামি ইতিহাসের একটি স্মরণীয় ঐতিহাসিক দিন। জিলহজ্বের এ দিনটি “গাদীর খুম” দিবস নামে পরিচিত। দশম হিজরীর এ দিনে রাসুলে কারীম রাউফুর রাহীম সাঃ যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন সেই আলোকে মুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দিনটি উদযাপন করে থাকে। আল্লাহর রাসুল সাঃ এটা জানতেন যে প্রত্যাদেশ বাণী বা আল্লাহ প্রদত্ত মানবের জীবন বিধান পূর্ণতা লাভ করার পর তিনি বেশি দিন ইহজগতে থাকবেন না। তাই নবম হিজরীর পর থেকেই মূলত তিনি এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছিলেন। ঐ সময় ইসলামের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধা- দ্বন্দ ও সংশয় সৃষ্টির জন্যে কাফের মুশরেকদের পক্ষ থেকেও জোর তৎপরতা শুরু হয়েছিল। তারা প্রচার করতো ইসলামের নবীর কোন পুত্র সন্তান নেই , কাজেই তার মৃত্যু হলে ইসলাম ধর্মের অস্তিত্বও আস্তে আস্তে বিলিন হয়ে পড়েবে। এমন এক অবস্থায় মুসলমানদের মনে কিছুটা অস্বস্তি বিরাজ করছিল।
সাহাবায়ে কেরাম রাঃ এটা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করতেন ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত মানব জীবন বিধান । এটা চিরস্থায়ী এবং পূর্ণাঙ্গ। পবিত্র কোরআন হচ্ছে মানব জাতির জন্যে সর্বশেষ ঐশি শ্বাশত গ্রন্থ এবং হযরত মুহাম্মদ সাঃ হচ্ছেন সর্বশেষ নবী এবং রাসুল। কাজেই দ্বীন ইসলাম চিরকাল টিকে থাকবে । ইসলামের বিধান শ্বাশত, অমর ও অক্ষয়। যতদিন এ জগত থাকবে ইসলামের দেদীপ্যমান দ্বীপ্তি আলো বিকিরণ করে যাবে। এ আলো নিভিয়ে দেয়ার ক্ষমতা কোন শক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। জাজ্বল্যমান এই বিশ্বাসকে ধারণ করার পরও মুসলমানদের মনে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। আল্লাহর রাসুলের ইহলোক ত্যাগের সম্ভাবনায় একদিকে তাদের মনে ছিল বিরহজনিত অন্তর্দাহ।
অন্যদিকে ইহুদী, খৃষ্টান ও পৌত্তলিকদের অব্যাহত চক্রান্তের কথা ভেবে তারা ইসলামের ভবিষ্যতের ব্যাপারেও নানা দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন । সবার কাছে এই প্রশ্নটিই বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল, প্রিয় নবীজী যখন এ জগতে থাকবেন না, তখন পবিত্র কোরআনকে ব্যাখ্যা করবেন, মুসলমানরাই বা জীবন জিজ্ঞাসার জবাব জানার জন্যে কার দ্বারস্থ হবেন?
ইতোমধ্যে হজ্বের সময় ঘনিয়ে এল। রাসুলে কারীম সাঃ মুসলমানদেরকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র হজ্ব পালন করলেন। এটাই ছিল আল্লাহর রাসুলের শেষ হজ্ব । বিদায় হজ্ব নামে যা আজও পরিচিত। হজ্বের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নবীজী এবার লক্ষ মুসলমানদের কাফেলাকে সঙ্গে নিয়ে মাতৃভূমি মক্কাকে বিদায় জানালেন, চলছেন প্রিয় মদিনার পথে। আল্লাহর রাসূলকে খুবই চিন্তিত মনে হচ্ছিল, এটা বিশিষ্ট সকল সাহাবিই লক্ষ্য করলেন। সবার মনেই এক অজানা আশঙ্কা। এমন সময় কাফেলা গাদীরে খুম নামক এক স্থানে এসে পৌঁছায় ।
ছোট্ট জলাশয় বা ডোবাকে আরবীতে গাদীর বলা হয়। গাদীরে খুম নামক স্থানটি মক্কা ও মদীনার মাঝামাঝি হেজাজের রাগিবের নিকটবর্তী জুহফার মসজিদের পার্শ্ববর্তীতে অবস্থিত । মরু আরবের মুসাফির বা বাণিজ্য কাফেলাগুলো সাধারণত এই ছোট্ট জলাশয়ের পাশে সাময়িক বিশ্রামের জন্যে অবস্থান করতো । আল্লাহর রাসুল যখন এই স্থানে এসে পৌঁছলেন তখন হযরত জিব্রাইল (আ) সুরা মায়েদার ৬৭ নম্বর আয়াত নিয়ে হাজির হলেন । বলা হলো- “হে রাসুল ! তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তুমি সবার কাছে পৌঁছে দাও , যদি তা না কর তাহলে তো তুমি তার বার্তা প্রচার করলে না । ”
রাসুলে রাব্বুল আ’লামীন সাঃ আল্লাহর নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি সবাইকে গাদীরে খুম নামক স্থানে সমবেত হতে বললেন। যারা কিছুটা এগিয়ে ছিলেন তারা পিছনে ফিরলেন। আর যারা পিছনে ছিলেন তারা এগিয়ে এলেন। রৌদ্রস্নাত উত্তপ্ত মরু হাওয়ায় সবাই ক্লান্ত অবসন্ন । তারপরও সকলেই প্রবল মনোযোগ সহকারে অপেক্ষা করতে লাগলেন আল্লাহর রাসুল কি বলবেন তা শুনার জন্য। আল্লাহর রাসুল উটের জিনকে মঞ্চের মত করে তাতে আরোহণ করলেন। এরপর সমবেত সকলকে লক্ষ করে বললেন, ”হে মুসলিমগণ! অচিরেই আমার জীবনের অবসান ঘটবে, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এ জগত থেকে চলে যেতে হবে আমাকে। আমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল ।
আমি কি আমার উপর অর্পিত রিসালাতের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছি? সকলেই সমস্বরে বলে উঠল, হে আল্লাহ নবী ও রাসূল ! আপনি আপনার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং এ পথে আপনি অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। এরপর আল্লাহর রাসুল সাঃ চারদিকে তাকিয়ে হযরত আলীর দুই হাত উত্তোলন করে বললেন, মহান আল্লাহ হচ্ছে আমার অলী এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী। আমি হচ্ছি মুমিন বিশ্বাসীদের অলী ও অভিভাবক, আর আমি যার নেতা ও অভিভাবক, আলীও তার নেতা ও অভিভাবক। হে আল্লাহ! যে আলীকে বন্ধু মনে করে তুমি তাকে দয়া ও অনুগ্রহ করো, আর যে আলীর সাথে শত্রুতা করে, তুমি তার প্রতি একই মনোভাব পোষণ করো । রাসু্লে সাঃ এর এই ভাষণের পরপরই হযরত জিব্রাইল (আ.) আবার অহী বা প্রত্যাদেশ বাণী নিয়ে এলেন। বলা হলো “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন বা জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করলাম ।
( সুরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াত ) গাদীরে খুমের ঐতিহাসিক ঘোষণায় আল্লাহর রাসুল কার্যত হযরত আলীকে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবেই নিযুক্ত করেছিলেন । তাই আমরা লক্ষ্য করি তাবুক অভিযানের সময় নবী করিম সাঃ এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু নবীজী হযরত আলীকে মদিনায় থেকে যেতে বললেন। হযরত আলী রাঃ এর কারণ জানতে চাইলে আল্লাহর রাসূল উত্তরে বলেছিলেন, ”তুমি কি চাও না মুসার স্থলে হারুন যেমন ছিল, তেমনি আমার স্থলেও হোক তোমার স্থান। যদিও আমার পরে আর কোন নবী বা রাসুল আসবে না। রাসুলে খোদা সাঃ এর অসংখ্য উক্তি বা বক্তব্যের আলোকে মুসলিমদের একটা বড় অংশ বিশ্বাস করেন, মহানবী সাঃ এর পর মুসলিমদের নেতৃত্ব বা পবিত্র কোরআনের যথার্থ ব্যাখ্যার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছিল হযরত আলী রাঃ এর উপর। তিনি মুসলিমদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন, আর এই দায়িত্ব চূড়ান্তভাবে অর্পিত হয়েছিল গাদিরে খুমের ঐতিহাসিক স্থানে।
ইসলাম নবী করিম সাঃ এর সাহাবাদের স্থান ও মর্যাদা অত্যন্ত উঁচুতে। সত্য ও ন্যায়ের ঝাণ্ডাবাহী সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইসলাম আদর্শ জীবন বিধান হিসেবে পৃথিবীজুড়ে বিকশিত ও প্রসারিত হয়েছিল। নূরনবীর সাহাবীগণ উত্তম চরিত্র, উন্নত ভ্রাতৃত্ববোধ এবং ত্যাগের যে আদর্শ স্থাপন করে গেছেন, তার দ্বিতীয় উদাহরণ মানব ইতিহাসে খুঁজে পাওয়াই কঠিন। তাই সত্যকামী নবীজীর প্রত্যেক সাহাবীই ইসলামের ইতিহাসের এক একটি নক্ষত্র। অগণিত নক্ষত্রের একজন হয়েও সন্ধ্যা তারা যেমন সূর্যের বর্ণচ্ছটায় উজ্জল, হযরত আলী রাঃ তেমনি বিশ্বনবীর নৈকট্য মহিমায় ইমামতের দ্বীপ্তিতে উজ্জ্বল। দিবসের দ্বীপ্ত রবি অস্তমিত হওয়ার পর ঘনায়মান অন্ধকারের মধ্যে প্রশান্তির বাণী নিয়ে যেমনিভাবে গগণ কোণে সন্ধ্যা তারার উদয় হয়। বিশ্বনবীর অন্তর্ধানের পর আলোকবর্তিকা হিসেবে দিগভ্রান্ত ইসলামের গগণ কোণে দেখা দিলেন হযরত আলী রাঃ।
হযরত আলী রাঃ সম্পর্কে নবী করিম সাঃ বলেছেন, আলী প্রেম মানুষের পাপ এমনভাবে ধ্বংস করে যেমনি আগুন জ্বালানী কাঠ ধ্বংস করে দেয়। একবার হযরত আলীকে দেখে আল্লাহর রাসুল বলেছিলেন, তিনটি এমন বৈশিষ্ট্য তোমার রয়েছে যেটা আমারও নেই, এই তিনটি বৈশিষ্ট হচ্ছে, তুমি এমন একজনকে শ্বশুর হিসেবে পেয়েছে, যা আমি পাইনি, এমন একজনকে তুমি স্ত্রী হিসেবে পেয়েছে, যে কিনা আমার কন্যা, আর তৃতীয়টি হচ্ছে তুমি হাসান- হোসাইনের মত সন্তানের পিতা যেটা আমার নেই ।
গাদীরে খুম্মের বিষয়টি বিশ্বমুসলিম উম্মাহর জন্য নিঃসন্দেহে পাথেয়। সাইয়্যিদিনা আলী ইবনে আবু তালিব রাঃ গাদীরে খুম্মে রাসূলে কারীম সাঃ কর্তৃক তিনার স্থলাভিষিক্ত এটি ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত। উল্লেখ্য ইমাম আলী রাঃ এর সাথে মু’য়াবিয়ার উটের যুদ্ধ পরবর্তীতে ইমাম হুসাইন রাঃ কে সহপরিবারে মু’য়াবিয়ার পুত্র এজিদ কর্তৃক হত্যা যা ইতিহাসের পর্যালোচনায় পূর্ববর্তী গোত্রীয় নেতৃত্বের ক্ষমতার প্রতিশোধের নির্মম হত্যাযজ্ঞ । যেসকল মুসলিম ভাই ও বোনেরা সাইয়্যিদিনা ইমাম আলী রাঃ কে পাকে পাঞ্জনের অংশ হিসেবে আহলে বাইতের সদস্য মনে করেন এবং এও বলে বেড়ান যে তিনি যুবকদের মধ্যে প্রথম মুসলিম।
তাহলে বিষয়টি একটু ভেবে দেখুন স্ববিরোধী হয়ে গেলো কিনা ? এছাড়াও যারা আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা দেখান এবং পাশাপাশি মু’য়াবিয়া ও এজিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন এটাও ঈমান বিধ্বংসের রীতির শামিল নয় কি? বস্তুত রাসূলে কারীম সাঃ এর পার্থিব লোকান্তরের পরবর্তী সময় খলিফা নির্বাচন থেকে শুরু করে কারবালার হত্যাযজ্ঞ পর্যন্ত সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আহলে বাইতের প্রতি অশ্রদ্ধা পূর্বগোত্রীয় প্রভাবের জাগরণ মুসলিম মধ্যে ফেৎনা সৃষ্টির ক্ষেত্র। তাই ইসলামের ইতিহাসের ঐতিহাসিক “গাদীরে খুম্মের গুরুত্ব” আরোপে ইসলামিক জীবন বিধান বাস্তবায়নে আহলে বাইতের প্রেমই মুসলিম উম্মার ঈমানী ঐক্যের একমাত্র পথ ও মত হওয়াটাই সমীচীন।
লেখকঃ
প্রধান সমন্বয়ক,
বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম।

“ইসলামের ইতিহাসে গাদীরে খুম্মের গুরুত্ব” — মুফতী মাসুম বিল্লাহ ।

মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায়েও বাংলা ভাষার চর্চা গৌণ : ওলামা লীগ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট স্কুল-কলেজের পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায়েও বাংলা ভাষার চর্চা গৌণ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের নেতারা৷ রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মেকাররমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ভাষাশহীদ ও ভাষাযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ দোয়ার পূর্বে বক্তারা এসব কথা বলেন। যোহর নামাজের পর ভাষাশহিদদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। ওলামা লীগের নেতারা বলেন, মাতৃভাষা আল্লাহ সোবহানাহু তা’য়ালার একটি নিয়ামত। ভাষা। ইসলামেও ভাষা শিক্ষা, ভাষার ব্যবহার ও মাতৃভাষায় ইসলাম চর্চা করার বেশ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মূল লক্ষ্য সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রবর্তন, তা আজও পূরণ হয়নি। সরকারি কাজকর্মে বাংলা চালু থাকলেও ব্যবসা-বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা, গবেষণাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইংরেজির প্রাধান্য লক্ষণীয়। ইংরেজি ভিনদেশী ভাষা। বাংলায় আইন প্রণীত হলেও উচ্চ আদালতে এখনো বাংলা চালু হয়নি। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের একাংশ মাতৃভাষা বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি রপ্ত করতেই বেশি আগ্রহী। শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যমের প্রসার ঘটে চলেছে, সাধারণ বিদ্যালয়েও বাংলা অবহেলিত। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায়েও বাংলা ভাষার চর্চা গৌণ। ওলামা লীগের সভাপতি মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী বলেন, ভাষাশহীদ ও ভাষাযোদ্ধারা আমাদের অন্তহীন প্রেরণার উৎস। মাতৃভাষার দাবিতে বাঙালি তরুণদের সেদিনের আত্মদান শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, ক্রমেই একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন ও অঙ্গীকার দানা বেঁধেছিল। সে স্বপ্নই স্বাধীনতাসংগ্রাম, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আমাদের পথ দেখিয়েছে। ভাষা আন্দোলন আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত। দিবসটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও বটে। মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের মহিমা ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর পরিমণ্ডলে। বিশ্বের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন জুয়েল বলেন, মাতৃভাষাযোদ্ধাদের একসাগর রক্তের মধ্য দিয়ে অর্জিত অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার আন্দোলনে পাকিস্তানী স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশের গুলিতে সেই দিন শহীদ হন সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত ও শফিকসহ অনেকে। পরিতাপের বিষয় হলো আজ বিদেশী ভাষার আগ্রাসনে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা হচ্ছে না। তাই সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর জন্য মহান ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে হবে। আর তা করতে পারলেই সর্বক্ষেত্রে বাংলাভাষার ব্যবহার সুনিশ্চিত করা যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় মসজিদের ইমাম মুফতী হাফেজ মাওলানা মুহিব উল্লাহ হিল বাকী। মুনাজাতে ভাষাশহীদ ও ভাষাযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনাসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগষ্ট যারা শাহাদাৎ বরণ করেছেন তাদের এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও জাতীয় চার নেতারও রুহের মাগফিরা কামনা করা হয়। এছাড়াও মুনাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি করা হয়। দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন, সাবেক সচিব সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির সদস্য জননেতা বেলাল নূরী বাংলাদেশ কার্যকরী সভাপতি মাওলানা আনোয়ার শাহ, সিনিয়র সহ-, হাফেজ মাওলানা ইদ্রিচ আলম আল কাদেরী, মুফতী আব্দুল আলিম বিজয়নগরী, হাফেজ মাওলানা শামসুল আলম জাহাঙ্গীর নূরানী হুজুর, হাফেজ মাওলানা সাঈফুল ইসলাম, মাওলানা মোঃ আব্দুল মুবিন আখন্দ, হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহনান, নাফি উদ্দিন উদয়, শাফি উদ্দিন বিনয় প্রমুুখ।

মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায়েও বাংলা ভাষার চর্চা গৌণ

প্রস্তুত ঢাকা নগর পরিবহন

গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা দূর করতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চালু হচ্ছে ঢাকা নগর পরিবহন। রোববার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে এর উদ্বোধন করা হবে। কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটারের রুটে বিআরটিসির বাসের পাশাপাশি সবুজ রঙের বাস নিয়ে ঢাকা নগর পরিবহন যাত্রা শুরু করছে। এরইমধ্যে বাসগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানোও হয়েছে। বাসগুলো যেখানে রাখা হয়েছে, তার পাশেই তৈরি করা হয়েছে বিশাল উদ্বোধনী মঞ্চ। জানা গেছে, ২১ কিলোমিটারের এ রুটে ঢাকা নগর পরিবহনের ৫০টি বাস নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনালাইজেশন কার্যক্রম শুরু হবে। এ রুটে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া পড়বে দুই টাকা ২০ পয়সা। জানা গেছে, প্রথমে ৫০টি বাস নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও কিছু দিনের মধ্যে এ রুটে মোট ১০০টি বাস চলাচল করবে।

প্রস্তুত ঢাকা নগর পরিবহন

“ময়ূরপঙ্খী উদ্যোক্তা সামিট” অনুষ্ঠিত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তা ও ময়ূরপঙ্খী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো “ময়ূরপঙ্খী উদ্যোক্তা সামিট ও মেম্বার মিটআপ” অনুষ্ঠান । ময়ূরপঙ্খী ফাউন্ডেশন (গভঃ রেজিঃ নং: ঢ-০৯৫৮৭) ও ময়ূরপঙ্খী উদ্যোক্তা ফোরাম এর আয়োজনে ও ময়ূরপঙ্খী ইন্টারন্যাশনাল এর ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ফরাজী হাসপাতাল প্রেজেন্টস “ময়ূরপঙ্খী উদ্যোক্তা সামিট ও মেম্বার মিটআপ” ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাজধানীর মিরপুরে অর্কিড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় । যুব ও নারী উদ্যোক্তা, রন্ধন শিল্পী, বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারীগণ এই সামিটে অংশগ্রহণ করেন । মূলত নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদানে এবং সফল উদ্যোক্তাদের বিশেষ সেশনের সমন্বয়ে আয়োজন করা হয়েছে এই অনুষ্ঠানটি । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফরাজী হাসপাতাল ও ফরাজী ডেন্টাল ও রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান স্বাস্থ্যবন্ধু ডাঃ আনোয়ার ফরাজী ইমন । বিশেষ অতিথি হিসেবে নুহা এন্ড ব্রাদার্সের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, বিএম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরিজমের সিইও রবিউল ইসলাম রবি উপস্থিত ছিলেন । সভাপতিত্ব করেন ময়ূরপঙ্খীর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রুহিত সুমন । সামিটে আগত উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে দশজনকে ময়ূরপঙ্খী পুরস্কার প্রদান করা হয় ।

সম্মাননা পেয়েছেন মোঃ মোজাম্মেল হক, সাইমন খান, মোহাম্মদ এস. আলম, রেহানা সিদ্দিকী লিজা, রবিউল ইসলাম রবি, শহিদুল ইসলাম, ডাঃ এম. ইয়াসিন আলী, আফরোজা নাজনীন, নিপা রাজ্জাক, মৌনতা আলম । উদ্যোক্তাদের ট্রেনিং সেশনে ট্রেনার ছিলেন ওরিওন টি কোম্পানির হেড অফ মার্কেটিং মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ইফাদের ম্যানেজার-এক্সপোর্ট মৃত্যুঞ্জয় নাথ, ড্যানিসের ম্যানেজার-এক্সপোর্ট ফয়সাল আহমেদ । গেষ্ট স্পীকারদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় । এছাড়া জমকালো সাংস্কৃতিক আয়োজন ও কেক কাটা পর্ব আগত অতিথি ও দর্শকবৃন্দ উপভোগ করেন । আগত উদ্যোক্তা ও সদস্যদের মেডেল, সার্টিফিকেট ও গিফট হ্যাম্পার প্রদান করা হয় । আরো ছিল কুইজ ও পুরস্কার প্রদান, মেহেদী উৎসব, ম্যাজিক, সংগীত ও ডিজে পারফর্মেন্স । অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে রুহিত সুমন বলেন- আমাদের স্পন্সর ও পার্টনারদের সহযোগিায় অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে ।

“ময়ূরপঙ্খী উদ্যোক্তা সামিট” এ সহযোগিতাকারী সকল স্পন্সর, পার্টনার ও মেম্বারদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি । আশা করি ময়ূরপঙ্খীর সামনের ইভেন্টগুলোতেও সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে । বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই ফরাজী হাসপাতালের চেয়ারম্যান স্বাস্থ্যবন্ধু ডাঃ আনোয়ার ফরাজী ইমন ভাই, লিজান গ্রুপের চেয়ারম্যান তানিয়া হক আপু, ফরাজী হাসপাতালের হেড অব কর্পোরেট মোঃ মোজাম্মেল হক ভাইসহ সম্মানিত সকল অতিথি, উদ্যোক্তা, ট্রেইনার, সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের যাদের উপস্থিতি আমাদের এই অনুষ্ঠান কে আলোকিত করেছে । সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন- সাথী খান, মোঃ হৃদয় রহমান, নিশাত, মিকাইল হোসেন, সালাউদ্দিন স্বপন, ফারজানা ফেরদৌস, স্বপন ডিনার, ডিজে সুমি, সাব্বির চৌধুরী ।

“ময়ূরপঙ্খী উদ্যোক্তা সামিট” অনুষ্ঠিত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তা ও ময়ূরপঙ্খী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো “ময়ূরপঙ্খী উদ্যোক্তা সামিট ও মেম্বার মিটআপ” অনুষ্ঠান

বাংলাদেশে খেলতে এসে শুরুটা দুঃস্বপ্নের মতো হলো সফরকারী নিউজিল্যান্ডের। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ কিউই ব্যাটসম্যানরা। সাকিব-মেহেদীদের ঘূর্ণিতে শুরু থেকেই ম্যাচের নাটাই টিম টাইগার্সের হাতের মুঠোয় ছিল। ধুঁকতে ধুঁকতে শেষ পর্যন্ত কিউইদের ইনিংস থামে মাত্র ৬০ রানে।

এদিকে, ব্যাটিং বিপর্যয়ে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড স্পর্শ করেছে কিউইরা। এর আগে ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ৬০ রানে অলআউট হয়েছিল টম লাথামরা। এদিন বাংলাদেশের বোলাররা আবারো নিউজিল্যান্ডকে সেই লজ্জায় ডোবাল।

বাংলাদেশের বোলাররা ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজই করে দিলো। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেতে হলে করতে হবে ৬১ রান।

কিউইদের সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় ডোবাল টাইগাররা ইনিংস থামে মাত্র ৬০ রানে

‘তালেবান ও ইসলাম’ সমার্থক নয় : সৈয়দ আনোয়ার

 প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ বঙ্গবন্ধু চেয়ারের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ তালেবান জঙ্গিদের থাবা থেকে মুক্ত নয়। তালেবান ও ইসলাম সমার্থক নয়। জঙ্গিবাদ নিয়ে আমাদের শংকার কারন রয়েছে। আমি ভেবেছিলাম ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সুশীল সমাজ তালেবানদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠবেন। আলোচনা করবেন, লিখনী লিখবেন। কেউ কোথাও কিছু করেননি। শনিবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাব জহুর হোসেন হলে বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আফগানিস্তানে জঙ্গি উত্থান বিশ্বের অশুভ সংকেত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন । ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার দুইটা লক্ষ একটা ইসলামকে যথার্থ ভাবে অনুসরণ করি। আরেকটা জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করা। আমরা এখনই সচেতনতা হই, সর্তক হই। বাংলাদেশ মানুষের দেশ হিসে গড়ে তুলবো অসাম্প্রদায়িক। এখানে ধর্ম থাকবে, ধর্মান্ধতা থাকবে না। ধার্মিক থাকবে কিন্তু জঙ্গি থাকবে না। এই প্রতিজ্ঞা আজ আমাদের করতে হবে। আফগানদের ধর্মচর্চা নিয়েও কথা বলেন ইতিহাসবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আফগানরা ইসলাম গ্রহণ করতে চায় নি। অনেক চেষ্টা তদবির করে ইরানী সুফি সাধকরা ক্রমাগত ভাবে আফগানে ইসলাম নিয়ে এসেছেন। আফগানরা যখন ইসলাম গ্রহণ করেছে, নিজেদের মত করে গ্রহণ করেছে। গোত্রভিত্তিক ইসলামি চেতনা লালন করেছে। আফগানরা গোত্র চেতনায় এক গোত্র আরেক গোত্রের সঙ্গে নামাজও পড়ে না, খায়ও না তবে যুদ্ধ করে এক সঙ্গে। তালেবানদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তালেবানদের বিরুদ্ধে আফগান নারীরা পুরানো আমলের পতাকা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, এ ছবিও আমরা দেখেছি। একজন নারীর বোরকা ছিলো না, গুলি করে মেরেছে তালেবান। কোরআন-হাদিসের কোথায় নির্দেশ আছে, হিজাব-নিকাব, বোরকা পরতে হবে; শালীনতার বাহিরে। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল বলেছ, ‘ইসলাম সেতো পরশ মণি, কে পেয়েছে খুঁজে’। আজকে পর্যন্ত কেউ খুঁজে পায় নি। ইসলামকে তালেবানরা খুঁজে পাবে না। আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো সম্প্রদায়কে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেবো না। দেশের যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কোনো কিছু থাকতে পারে না। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিশেষ গোষ্ঠী বা বিশেষ ব্যক্তির প্রাধান্য যাতে সেখানে না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এসময় অন্যন্য বক্তারা বলেন, পাকিস্তান-চীন আজকে তালেবান-জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদীরা তালেবানদের মত অপশক্তিকে ব্যবহার করছে। জঙ্গি-তালেবানদের বিরুদ্ধে আমাদের আদর্শিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সামজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তালেবানরা স্বাভাবিক মানুষ নয়। বক্তারা আরও বলেন, আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থাপন আমাদের জন্য অশুভ সংকেত। আমাদের দেশের উগ্র মৌলবাদীরা সুরসুরি পাচ্ছে। তালেবানরা ইসলামের নামে সন্ত্রাববাদ করছে এতে ইসলাম ধর্মের ক্ষতি হচ্ছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম এখনে জঙ্গিবাদের জায়গা নেই। ধর্মের নাম দিয়ে ইসলামের উপরে কালিমা লেপন করা হচ্ছে। জোরজবরদস্তির করার জায়গা নেই। তালেবান, জঙ্গিরা জোরজবরদস্তির করছে। তালেবানদের অত্যাচারে আফগান মুসলিমরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। এটা কোনো ভাবেই ইসলামের বিজয় নয়। বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্টি ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, বিশিষ্টি ইসলামি চিন্তা বিদ আল্লামা এটিএম ফরহাদ, মাওলানা মহিউদ্দিন খান ফারুকী, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. আব্দুল আজিজ, তসলিম উদ্দিন রানা, সন্তুষ দাস গুপ্ত, বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্টি ফোরামের সমন্বয়ক শেখ জনি ইসলাম, সাংবাদিক গণবন্ধু রাহাত হুসাইন প্রমুখ।

‘তালেবান ও ইসলাম’ সমার্থক নয় : সৈয়দ আনোয়ার

পল্লবী থানায় করা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে জামিন দিয়েছেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত আজ মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর গুলশান থেকে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার হন হেলেনা জাহাঙ্গীর।

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে জামিন দিয়েছেন আদালত

সারা দেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় চলবে বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে বাস, ট্রেনসহ সব ধরনের গণপরিবহন। খুলবে দোকানপাট ও রেস্টুরেন্ট। রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে সড়কে নামতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পরিবহন কোম্পানিগুলো। বিক্রি হচ্ছে অগ্রিম টিকিটও। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত দোকান ও রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।

ঈদুল আজহার পর টানা ১৯ দিন কঠোর লকডাউনের বিধিনিষেধ উঠছে বুধবার থেকে। রোববার (৮ আগস্ট) দেশব্যাপী লকডাউনের শিথিলতার বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপর থেকেই পরিবহন খাতের দীর্ঘ স্থবিরতায় ফিরে প্রাণ-চাঞ্চল্যতা।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার (৯ আগস্ট) থেকেই চলছে নানা প্রস্তুতি। সকালে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকরা বাস ধোয়ামোছার কাছে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে যন্ত্রপাতি। রং করে বাস চলাচলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 

প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে সড়কে নামতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পরিবহন কোম্পানিগুলো।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের সময়সীমা শেষ হওয়ার এক দিন আগেই আজ সোমবার রাজধানীর সড়কে প্রচুর যানবাহন নেমেছে। বাস ছাড়া প্রায় সব ধরনের যানবাহন সড়কে চলছে। যানবাহনের চাপে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্থাপিত পুলিশ তল্লাশিকেন্দ্রগুলো অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে যানজট।

চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয় ২৩ জুলাই সকালে। চলবে কাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। বুধবার থেকে শর্ত সাপেক্ষে অফিস, গণপরিবহনসহ সবকিছু খুলে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে গতকাল রোববার আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চলাচল অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি প্রচুরসংখ্যক মোটরসাইকেল, কাভার্ড ভ্যান, এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়কে নেমেছে। আর রিকশা তো আছে। যানবাহনের ব্যাপক চাপে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট দেখা গেছে।

বিধিনিষেধের সময়সীমা শেষ হওয়ার এক দিন আগেই রাজধানীর সড়কে প্রচুর যানবাহন নেমেছে

https://www.facebook.com/bm24tvofficialpage